করোনা : কক্সবাজার কমেছে দূরপাল্লার বাস চলাচল

প্রকাশ: ২৪ মার্চ, ২০২০ ১২:৩৬ : অপরাহ্ন

তুষার তুহিন।

করোনা প্রতিরোধের জন্য কক্সবাজার থেকে দূর পাল্লার বাস চলাচল কমেছে। বন্ধ হয়ে গেছে বেশিরভাগ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত যাত্রীবাহি গনপরিবহন। যাত্রী সংকটের কারণে নন এসি বাসও আগের তুলনায় কম চলছে। কমেছে উখিয়া- টেকনাফ রোড়ের সাথে যোগাযোগও। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছে কম চললে হবে না । কমপক্ষে এক সপ্তাহের জন্য হলেও গনপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া দরকার।
সূত্র জানায়, কক্সবাজার থেকে প্রতিদিন প্রায়ই চার শতাধিক দুরপাল্লার বাস চট্টগ্রাম, ঢাকা সহ দেশের উত্তরাঞ্চলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেত। কিন্তু করোনার কারনে সেই সংখ্যা এসে দাড়িয়েছে শ’ এর নিচে। টেকনাফের পথে এখন প্রায়ই দেড় ৭/৮ টি বাস যা আগের তুলনায় কয়েকগুন কম।
সরেজমিনে কক্সবাজার শহর ঘুরে দেখা যায়, দূরপাল্লার এসি বাস গ্রীন লাইন, সোহাগ, দেশ ট্রাভলস এর কাউন্টারগুলো বন্ধ। গ্রীলে ঝুলছে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিশ।
এছাড়া অন্যান্য বাস কাউন্টার খোলা থাকলেও যাত্রী কম থাকায় তাদের সেবাও কমেছে।
এ বিষয়ে শ্যামলী পরিবহনের টিকেট বিক্রয়কর্মী রাব্বি বলেন, কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে আগে তাদের ২০ টি বাস ছাড়ত। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের দিকে ৩ টি বাস চলাচল করত। তবে করোনার কারনে এখন যাত্রী কমে যাওয়ায় তাদের ৩/৪টি বাস চলাচল করে। যাত্রী আরো কমে গেলে অটোমেটিক চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। তবে বাস বন্ধের মত কোন সিদ্ধান্ত এখনো কর্তৃপক্ষ নেয়নি।
এনা পরিবহনের ঝাউতলা কাউন্টারের বিক্রয়কর্মী বলেন, ঢাকা- কক্সবাজার রুটে এমাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত তাদের ১৭/১৮টি চলাচল করত। কিন্তু এরপর থেকে যাত্রী কমে যাওয়ায় গাড়ির সংখ্যা কমানো হয়েছে। বর্তমানে এই রুটে ২ টি গাড়ি চলাচল করে। যা আগামী ২৫ মার্চ পর্যন্ত চলাচল করবে।
তিনি আরো বলেন, ২৫ মার্চ পর্যন্ত আমাদের অগ্রিম টিকেট বিক্রি হয়েছে। তাই যাত্রীদের সেবা বিবেচনা করে আমরা এখনো বাস চলাচল অব্যাহত রেখেছি। তবে সেদিনের পর এই রুটে আমাদের গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে।
সৌাদিয়া কাউন্টারের ম্যানেজার মিরু বলেন, কক্সবাজার- চট্টগ্রাম- ঢাকা রুটে কোম্পানির ৬০ টি গাড়ি চলাচল করত। এখন ৪০টির মত চলাচল করে। যাত্রী না কমলে কিবা সরকার বন্ধের ঘোষনা না দিলে সৌদিয়া গাড়ি এই রুটে চলবে বলেও তিনি জানান।
এস.আলম পরিবহনের লালদিঘীর পাড়স্থ কাউন্টারের টিকেট বিক্রয়কর্মী সেলিম বলেন, যাত্রী সংকট থাকায় এই রুটে এস. আলমের গাড়ি চলাচল কমেছে। সরকারী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আমরা গাড়ি বন্ধ করব না।
এদিকে গ্রীন লাইন পরিবহনের কক্সবাজার ম্যানেজার সোলতান আহমেদ বলেন, করোনার প্রতিরোধের অংশ হিসেবে গ্রীনলাইনের বাসগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। উর্ধ¦ত্বন কর্তৃপক্ষ পরবর্তী নির্দেশনা দিলেই আমরা এই রুটে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক করব।
এদিকে উখিয়া-টেকনাফে রুটে প্রতিদিন ৫০ টির মত গাড়ি চলাচল করলেও এখন সর্বসাকুল্যে ৭/৮ টি গাড়ি চলাচল করে।
এ বিষয়ে আন্ত:জেলা বাস মালিক সমিতির কর্মকর্তা এডভোকেট রনজিৎ দাশ বলেন, কক্সবাজার থেকে চকরয়িা ও টেকনাফ রুটের বাস চলাচল আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। যারা বর্তমানে চলাচল অব্যাহত রেখেছেন তারাও যাত্রী সংকটের কারণে চালাতে রাজি নন। এমন অবস্থা চললে দু একদিনের মধ্যেই আন্ত:জেলা বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।
এদিকে ‘কক্সবাজার বাঁচাও’ আহবায়ক কলিম উল্লাহ বলেন, করোনা থেকে মুক্ত থাকতে রাজশাহি, খুলনা থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেই দুটি জেলার মত কক্সবাজার থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ ঘোষনা করা দরকার।
এবিষয়ে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিব ) এর সাধারন সম্পাদক ডা. মারুফুর রহমান বলেন, করোনার কোন প্রতিষেধক নাই। করোনা একটি মারাত্বক রকমের ছোয়াচে রোগ। এটি প্রতিরোধ করতে হলে একে অপরের সাথে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব রাখতে হবে। এমনকি একই জিনিস ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। তাই নিতান্ত প্রয়োজন না হলে দূর- দূরান্তের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করাই শ্রেয়। সুত্র: দৈনিক কক্সবাজার