ইসলামাবাদের হাসির দিঘী মাদক পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট!

প্রকাশ: ২৬ মার্চ, ২০২০ ৭:৩৩ : অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঈদগাঁও, কক্সবাজার
কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী হাসির দীঘি ইয়াবাসহ মাদক পাচারের মূল ট্রানজিট পয়েন্ট। এমনটা দাবি করে এলাকা থেকে মাদক সেবক ও কারবারীদের উচ্ছেদ ও দমন করতে শতাধিক লোক পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। ২৫ মার্চ তারিখে প্রদত্ত স্মারকলিপিতে এ দিঘীর পাড়কে মাদক মুক্ত এলাকা হিসাবে ঘোষণা করে কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। ওয়াহেদর পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা কর্তৃক প্রদত্ত স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় যে, গ্রামের ঐতিহ্যবাহী একমাত্র দিঘীর নাম হাসির দিঘী। আরাকান সড়কের নিকটস্থ এ দিঘির উভয় পাড়ে অসংখ্য মানুষের কবর বিদ্যমান থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল ও আনাগোনা কম। অতীতে এ কবরস্থানটির সার্বিক নিরাপত্তা ছিল অনেক বেশি। স্মৃতিবিজড়িত এ দিঘির এলাকাবাসী তথা তাদের পূর্বপুরুষরা এখানে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মসজিদ, তাহফীজুল কুরআন মাদ্রাসা ও গ্রামের অভ্যন্তরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মসজিদ। এর সন্নিকটে রয়েছে ওয়াহেদ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গ্রামের শিক্ষার প্রসারে এ মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, কিছু বহিরাগত মাদকাসক্ত লোকের কারণে এ গ্রামবাসী এখন চরম উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে ছেলেদের রক্ষাও নিরাপত্তা বিধানে অভিভাবকরা এখন প্রশাসনের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হচ্ছেন। কারণ উঠতি বয়সি ছেলেরা লেখাপড়ার পরিবর্তে মাদকের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাই মাদকের প্রসার  রোধে কার্যকরী ভূমিকা নিতে প্রশাসনের এগিয়ে আসা উচিত।
প্রদত্ত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয় যে, সম্প্রতি গ্রামের আশেপাশে মাদকসেবী ও কারবারিদের আনাগোনা দিন দিন বেড়েই চলছে। দিঘির দক্ষিণ পাড়ের একটি টিনশেড ঘরকে এসব ঘৃণিত মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা গড়ে তুলেছে তাদের মাদক সেবনের আস্তানা ও পাচারের মূল ঘাঁটি হিসেবে। দীঘিটি আরাকান সড়কের নিকটস্থ হওয়ায় কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে অতি সহজে ইয়াবা সহ যাবতীয় মাদক পাচারের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এ পয়েন্টটি।  প্রায়শ রাতের অন্ধকারে দিঘির পাড়ের আস্তানায় অপরিচিত মানুষের আসা যাওয়াও বাসে যাত্রীদের উঠানামা করতে দেখা যায়। এ কারণে গ্রামের চুরি ডাকাতি ও নানান অসামাজিক কার্যকলাপ ঘটছে। কিছুদিন আগে এলাকা থেকে তিন চারটি গরু ছাগল চুরি হয়ে যায়। এলাকাবাসী সবকিছু দেখলেও জীবনের নিরাপত্তার ভয়ে কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না। তবে তারা ভীষণভাবে ক্ষিপ্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে শুরু করেছেন। এতে করে এলাকায় সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এলাকাটি দিনদিন কলুষিত হয়ে উঠলেও স্থানীয় প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। তারা দেখেও না দেখার ভান করছে। যার কারণে সমগ্র এলাকাবাসী ওই চক্রের নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছেন। এসব দেশ দ্রোহী মাদক কারবারীদের কবল থেকে এলাকাবাসী বাঁচতে চান। অভিযোগকারীরা জানান, যারা এসব ঘৃণিত কাজে জড়িত তারা সকলেই বহিরাগত, মাদকাসক্ত, চিহ্নিত দাগি আসামি। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিকট নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসন আইনি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, নিয়ামত উল্লাহ নামের এক ব্যক্তি এসব চক্রের মূল হোতা। তার বাড়ি ঈদগাঁও বাজারে। ইতোপূর্বে উক্ত জায়গার খরিদা মালিক হাজী মোহাম্মদ ইসমাইল নিয়ামতকে তার অপকর্ম, মাদক সেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে বলাায় সে হুমকি-ধামকি ও অপহরণের ভয় দেখালে তিনি কক্সবাজার মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ডায়েরী নম্বর ১০০৭। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, অপরাধী চক্র গ্রামের স্কুল পড়ুয়া ছেলে ও দিনমজুরদের মাদক সেবনে জড়ো করে সমাজের সুন্দর পরিবেশকে অশান্ত করে তুলছে। তাদের মতে সামনে আসছে মুসলিমদের সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র রমজান। তাই রমজান আসার আগে এসব দুর্বৃত্তদের পাকড়াও করে এলাকায় শান্তি ও রমজান মাসের পবিত্রতা বজায় রাখতে হবে। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সদস্য সহ সকলের দাবি যে, হাসির দিঘীরপাড় থেকে মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা হোক। তাদেরকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে দিঘির পাড়কে মাদক মুক্ত এলাকা হিসেবে কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। স্মারকলিপিতে মনির আহমদ, মোহাম্মদ সেলিম, নুরুল হুদা, মোহাম্মদ সেলিম উল্লাহ, মোহাম্মদ ইউনুস বাবুল, আশরফ আলী, সাবের আহমদ, এমদাদ, নুরুল আমিন, শহীদুল্লাহ, আলমগীর, সৈয়দ আকবর, নুরুল আবসার, জাবেের আহমদ, মোহাম্মদ হোসেন সৈয়দ আলম, এজার মিয়া, নুরুল হক, মোহাম্মদ জাকারিয়া, আমানু, জাফর আলম, রাসেল মুহাম্মদ ইউনূস, জিয়াবুল হক, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, মনজুর আলম, মোহাম্মদ ফয়সালসহ একশতজন স্বাক্ষর করেছেন।.