ইসলামপুরে ঘুর্ণিঝড় আতংকের মধ্যে রাতে স্কেবেটর দিয়ে বসতঘর গুড়িয়ে দিল রেলওয়ে-চরম উত্তেজনা

প্রকাশ: ৯ নভেম্বর, ২০১৯ ৮:৪৯ : অপরাহ্ন

আনোয়ারহোছাই, ঈদগাঁ, কক্সবাজার

সরকারের রেললাইন প্রকল্পে অধিগ্রহণকৃত জায়গার ক্ষতিপূরণ না দিয়ে উল্টো রাতের অন্ধকারে স্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো বসতবাড়ি। বাড়িতে থাকা ঘুমন্ত লোকজন দ্রুত বের হয়ে যাওয়ায়   প্রাণহানি থেকে রক্ষা পায় পরিবারের সদস্যরা । তবে, ঘরের ভেতরে থাকা মূল্যবান সরঞ্জাম রক্ষা হয়নি। গৃহহীনরা বর্তমানে খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছে।
শনিবার (৯ নভেম্বর) গভির রাত প্রায় আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার  ইসলামপুর ইউনিয়নের  ৭ নং ওয়ার্ডের বামনকাটায় এই ঘটনা ঘটে।সংবাদ পেয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এগিয়ে গেলে পালিয়ে যায় স্কেভেটর চালক ডালিম। ক্ষতিগ্রস্তরা হল  ওই এলাকার মৃত আবদুল আজিজের ছেলে আব্দুুচ্ছবি, ফকির মোহাম্মদের ছেলে নুরুল আমিন ও নুুুরুল ইসলামে স্ত্রী রিনা পারভিন। এ ঘটনায়  চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে এলাকাবাসীর মাঝে  ।
ক্ষতিগ্রস্থরা অভিযোগ করে বলেন, গভীর রাতে ঘরের দেয়ালে ধাক্কার শব্দে  আমাদের ঘুম ভাঙ্গে। বাইরে গিয়ে দেখি, স্কেভেটর দিয়ে ঘর গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।এ ভয়ানক অবস্থা দেখে পরিবারের ঘুমন্ত শিশু ও নারীদের কোন প্রকারে বের করে আনলে প্রাণে রক্ষা পায়।তবে রেলওয়ের ফোরম্যান সরওয়ারের নেতৃত্বে ঘর গুড়িয়ে দেয়ার কাজে জড়িত দানবের দল ঘরে থাকা কোন জিনিসই বের করার সুযোগ দেয়নি। মুহূর্তেই বিশালাকার ঘরসহ সব  ধ্বংস্থুপে পরিণত হয়। রাতের ঘন অন্ধকার ও  ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের গুড়ি বৃষ্টিতে ভয়ে আতংকে শিশু নারীরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। রাতের অন্ধকারে ঘর ভাঙার কারণ জানতে চাইলে কোন সদুত্তর না দিয়ে স্কেভেটর চালক ডালিম দ্রুত পালিয়ে যায়।
তাদের কান্নার শব্দে  এলাকাবাসী এগিয়ে এসে এ দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যাই।  স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন বলেন, ক্ষতিপূরণের টাকার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ধর্ণা দিতে দিতে দিন-মাস-বছর শেষ। টাকা তো দেয়নি, উল্টো ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে এভাবে অমানবিক আচরণ মেনে নেয়া যায়না। যারা এমন অমানবিক আচরণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানাচ্ছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ইদ্রিছ রানা বলেন, ক্ষতিপূরণের টাকা তো দেয়নি। সেখানে আবার রাতের অন্ধকারে ঘুমন্ত মানুষজন রেখে বসতবাড়ির উপর স্কেভেটর চালানো কেমন সাহস? ঘৃণিত এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এতে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূল শাস্তি ও দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধের দাবী করছি। তিনি আরো বলেন,হঠাৎ রাতে এ ঘটনা জেনে ধ্বংসস্থলে পৌছে দেখি এলাকাবাসী চরম উত্ততেজিত।তাদের উত্তেজনা প্রশমনে ঘরে গুড়িয়ে দেয়া কাজে জড়িত সরওয়ারের কাছে রাতে এ অমানবিক কাজ করার কারণ জানতে চাইলে সে উল্টো তর্কে লিপ্ত হয়।এতে জনগণ আরো ক্ষিপ্ত হলে চেয়ারম্যানের সাথে মোবাইলে পরামর্শ করে  স্কেবেটরের চাবি মেম্বারের জিম্মায় নিলে জনগণের উত্তেজনা প্রশমন হয়।ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মালিকরা জানান, সার্ভে করার সময় তিন ঘরের নামে পৃৃৃথক আবেদন করা হয়।কিন্তু পরে দায়ীত্বরতদের অবহেলায় বারবার নয় ছয় করে শুধু একজনকে নামে মাত্র কিছু    ক্ষতি পুরণের  চেক দেয়ার চেষ্টা করে।তাও মোটা অংকের  ঘুুষের বিনিময়ে।ক্ষতিপুরণ ছাড়া ঘর না ছাড়াতে এ হীন কাজ করেছে। তারাা তাদের যথাযথ  পাওনা পাওয়ার দাবি জানান।সরেজমিনে গেলে ধ্বংসস্থলে উপস্থিত রেলওয়ের সাইট প্রকৌশলী দাবিদার জিয়া উদ্দিন বাবুল ও একই পদের চায়না নাগরিক দোয়ানের কাছে এ ঘটনার কারণ জানতে চাইলে সদুত্তর  দিতে পারেনি। তারা ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ককে জানাবেন এবং সুুুষ্ঠ সমাধান  না  হওয়া পর্যন্ত উক্ত স্থানে কাাজ করবেনা বলে উপস্থিত  লোকজনদের আশ্বস্ত করেন।এর বিপরীত হলে ক্ষুদ্ধ  এলাকাবাসী মানব বন্ধন করবেন বলে জানান।সর্বশেষ মেম্বার ঈদ্রীস রানা জানান,তিনি ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে, তিনি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো নিয়ে যেতে বলেন।রিপোর্ট লিখা কালীন  তাদের নিয়ে সে উদ্দেশ্য রওয়ানা হয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার বলেন, রেলওয়ের কাজ চলতে হবে, আবার জনগণকে ক্ষতিপূরণের টাকাও পাইতে হবে। কিন্তু দিন থাকতে রাতের অন্ধকারে কেন ঘর ভাঙবে? তা খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তিনি আরো বলেন, ক্ষতিগ্রস্তরা  যোগাযোগ করলে, প্রয়োজনীয় সমাধান দেবেন।