ঈদগাঁওতে ফের সক্রিয় গরু চোর সিন্ডিকেট, জনমনে উৎকন্ঠা

প্রকাশ: ২৮ জুলাই, ২০২১ ১১:০৪ : পূর্বাহ্ণ

মাহমুদুল করিম মাহমুদঃ

চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি ঈদগাঁও থানা হিসেবে যাত্রার পাঁচ মাসের মাথায় ঈদগাঁও’কে উপজেলা অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সোমবার (২৬ জুলাই) প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৭তম সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়।

উপজেলার ঘোষণা আসার পর ঈদগাঁওতে সর্বসাধারণের মাঝে ঈদের আমেজ লক্ষ করা গেছে৷
তবে, উপজেলা ঘোষণার রাত থেকেই প্রবল বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢলে সদ্য ঘোষিত ঈদগাঁও উপজেলার ৯০ শতাংশ মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়ে তাদের জনজীবনে নেমে এসেছে দূর্ভোগ৷

এরই মাঝে দফার দফায় গরু চুরি নিয়ে বিপাকে পড়েছে সাধারন মানুষ।চুরি কর্মকান্ড সংগঠিত হওয়ার পরেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে প্রকৃত চোর সিন্ডিকেট চক্র।এ নিয়ে বৃহত্তর এলাকার গ্রামীণ জনপদের লোকজনের মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠা আর চরম আতংক দেখা দিয়েছে।

আজ ২৮ জুলাই বুধবার রাতে জালালাবাদে ফের গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। পালাকাটা বট্টলিপাড়ার আব্দুল কাদেরের বাড়ি থেকে ১টি এবং ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের হোসাইন আহমেদ এর বড় ছেলে নুরুল ইসলামের বাড়ি থেকে ৩টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোর সিন্ডিকেট।

সকালে গোয়াল ঘরে খাবার দিতে গিয়ে পালিত গরু দেখতে না পেয়ে দিনমজুর নুরুল ইসলামের স্ত্রীর চিৎকার ও আর্তনাতে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে চুরি হওয়া গরুগুলো বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করেন৷পরে স্থানীয় এক ইমাম খবর পাঠান গরু গুলো তার সযত্নে আছে এবং প্রকৃত মালিক এসে যেন গরুর গুলো নিয়ে যান৷

স্থানীয় মেম্বার আরমান উদ্দিন মোর্শেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,‘ফজরের জামাতে যাওয়ার সময় মৌলবি আলী আহমেদ হুজুরের নজরে পড়লে চোররা গরু ৩টি দৌলাইন্না মুরা (স্থানীয় কবরস্থান) কবরস্থানে রেখে পালিয়ে গেলে মৌঃ আলি আহমদ হুজুর গরু গুলো নিজের গোয়ালঘরে বেঁধে রাখেন এবং পরবর্তীতে গরুর মালিককে গরু গুলো হস্তান্তর করেন’৷

বট্টলিপাড়া থেকে চুরি হওয়া গরুর মালিক জানান,দীর্ঘদিন ধরে লালন পালন করা গরুটি এভাবে চুরি হয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছি। অপর দিকে চোর সিন্ডিকেট চক্ররা এখনো অধরা রয়েছে। প্রকৃত চোরদেরকে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু চোর আটক হয়ে সপ্তাহ খানেক যেতে না যেতেই এলাকায় ফিরে এসে ফের অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে। যার কারণে প্রচলিত আইনের প্রতি পাড়া মহল্লার গরু ব্যবসায়ীসহ লোকজনের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির পাশাপাশি আতংকে দিনযাপন করছে স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, ‘গরু চোর সহ অপরাধীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসন সজাগ আছে’৷ এসময় তিনি চোর সিন্ডিকেট রুখতে সর্বোচ্চ চেষ্টার কথা জানান৷