স্বেচ্ছায় বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য পোকখালীর গৃহবধূ আদালতের শরণাপন্ন

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ১২:২৭ : পূর্বাহ্ণ

মোঃ রেজাউল করিম, ঈদগাঁও, কক্সবাজার।
ঈদগাঁও উপজেলার আওতাধীন পোকখালী ইউনিয়নের এক সন্তানের জননী স্বেচ্ছায় বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। ইউনিয়নের পূর্ব গোমাতলীর ওই গৃহবধূ একই সাথে দেনমোহর, নিজ ও সন্তানের খোরপোষ এবং সন্তানের হিযানত পাবার আবেদন জানিয়েছেন তাদের দায়েরকৃত মামলায়। কক্সবাজারের বিজ্ঞ সিনিয়র পারিবারিক (সহকারি জজ) আদালতে তারা এ মামলাটি করেছেন। পারিবারিক মামলা নম্বর ১০৩/২০২১ ইংরেজি। গত ১২ সেপ্টেম্বর এটি রুজু করা হয়।
মামলার বাদী হচ্ছেন হাছিনা আক্তার ও তার নাবালক পুত্র তাফসিরুল ইসলাম রামিম। হাছিনা পোকখালী ইউনিয়নের পূর্ব গোমাতলীর মোহাম্মদ ইসলামের মেয়ে। মামলার বিবাদী হচ্ছে হাছিনা আক্তারের স্বামী আব্দু সালাম। তিনি ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব বোয়ালখালীর মোজাহের আহমদের পুত্র। ইসলামী আকীদা অনুযায়ী ২০১৬ সালের ১৮ ই অক্টোবর তাদের বিয়ে হয়। সে সময় শ্বশুরবাড়ি থেকে স্বামীকে প্রায় তিন লক্ষ টাকার বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়েছিল। বিয়ের এক বছর পর তাদের সংসারে এক পুত্র সন্তান আসে।
বাদীরা মামলার আরজিতে উল্লেখ করেন যে, বিবাদী আব্দু সালাম নানা অজুহাতে কয়েক দফায় তার শ্বশুর পক্ষের নিকট থেকে যৌতুক দাবি করে। সে শ্বশুরের কাছ থেকে হাওলাত বাবদ মোটা অংকের টাকা গ্রহণ করে পরে তা পরিশোধে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। দেশ ফেরত এসে সে আবারো ২ লক্ষ টাকা যৌতুকের জন্য হাছিনাকে নানা নির্যাতন করতে থাকে। এর আগে বিদেশ যাওয়ার সময় সে শ্বশুরের কাছ থেকে দেড় লক্ষ টাকা ধার নেয়। পরে দাবীকৃত যৌতুক এনে দিতে না পারায় বিবাদী হাছিনাকে অন্তঃসত্বা অবস্থায় একবস্ত্রে ঘর থেকে বের করে দেয়। ইত্যবসরে সে হাছিনার তিন ভরি স্বর্ণালংকারও আত্মসাৎ করে। হাছিনা তার স্বামীর সংসারে ফিরে যাবার আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। স্বামীর অব্যাহত যৌতুক দাবি এবং একগুঁয়েমির কারণে তার আর ফিরে যাওয়া হয়নি। বর্তমানে তিনি পুত্রসহ পিতার বাড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিষয়টি স্থানীয় গ্রাম্য সালিশ ও ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র পর্যন্ত গড়ায়। কোথাও এর সুষ্ঠু সমাধান না পাওয়ায় হাছিনার মনে এ প্রতীতি জন্মেছে যে, স্বামীর সাথে তার আর সংসার করা হবে না। তাই তিনি স্বীয় নফসের উপর নিকাহনামার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আদালত উপলক্ষে স্বামীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সাথে তিনি তার প্রাপ্য বকেয়া মোহরানার আড়াই লক্ষ টাকা, নিজের ও সন্তানের খোরপোষ এবং সন্তানের হিযানত পেতে আইনি প্রতিকার চেয়েছেন। মামলায় তিনি স্বামী কর্তৃক তার ওপর নিষ্ঠুর আচরণ ও ক্রমাগত অবহেলার অভিযোগ আনেন। এছাড়া তার কাছ থেকে জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া ও রেখে দেয়া স্বর্ণালঙ্কার ও অপরাপর মালামাল বাবদ ৪ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ফেরত পেতে আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আব্দুস সালামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, স্ত্রী তাকে ছয় মাস আগে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছে। এরপরও গত তিন মাস পর্যন্ত আমি সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি। আমার একমাত্র ছেলেকে পাবার জন্য ও চেষ্টার কোন কমতি ছিল না। হতে পারে আমার স্ত্রীর সাথে অন্য কারো পরকীয়া রয়েছে। সংসার ভাঙ্গার জন্য তাকে কেউ না কেউ উৎসাহিত করছে। ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রে বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেখানে উভয়পক্ষের মধ্যে কোন মতৈক্য হয়নি। এখনো পর্যন্ত আমি আমার জন্ম দেয়া ছেলেটিকে ফেরত পাই নি। আমার চার বছর বয়সি ছেলের জন্য খোরাকি এবং টাকা পয়সা দিলেও সে তা গ্রহণ করছে না। ১০/১২ দিন আগেও সে কোন কিছু ছাড়া বিবাহ-বিচ্ছেদে সম্মত আছে বলে আমার এক ঘনিষ্ঠ জনকে জানায়। যার রেকর্ডিং আমার কাছে রয়েছে। সে যদি আমার সাথে সংসার করতে আগ্রহী না হয় সে ক্ষেত্রে আমার কী করার আছে?